আগস্টে যুক্তরাজ্যের সরকারি ঋণ ১৮৩০ কোটি পাউন্ড ছাড়াল

গত আগস্টে দেশটির সরকার মোট ১ হাজার ৮৩০ কোটি (১৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন) পাউন্ড ঋণ নিয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯০ কোটি পাউন্ড বেশি।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় ঋণ বিশ্লেষকদের ধারণার চেয়েও দ্রুত গতিতে বাড়ছে। গত আগস্টে দেশটির সরকার মোট ১ হাজার ৮৩০ কোটি (১৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন) পাউন্ড ঋণ নিয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯০ কোটি পাউন্ড বেশি। যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের সদ্য প্রকাশিত তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টে আয় বা রাজস্ব আদায়ের চেয়ে সরকারি ব্যয় দ্রুত গতিতে বাড়ায় এ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা ধারণা করেছিলেন, ঋণের পরিমাণ দেড় হাজার কোটি পাউন্ডে সীমাবদ্ধ থাকবে।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের বাজেট দায়িত্বসংক্রান্ত স্বাধীন পর্যবেক্ষণ সংস্থা (ওবিআর) ধারণা করেছিল, এ অংক থাকবে ১ হাজার ৪৮০ কোটি পাউন্ডে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ওবিআরের পূর্বাভাসের চেয়ে ৩৫০ কোটি পাউন্ড বেশি ঋণ নিতে বাধ্য করেছে ইউকে সরকারকে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম কয়েক মাসে সব মিলিয়ে ওবিআরের আগের প্রাক্কলনের তুলনায় মোট ৮১০ কোটি পাউন্ড বেশি ঋণ নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। সামনেই আগামী মাসের জাতীয় বাজেট ঘোষণা করা হবে। বাজেট তৈরির এ চূড়ান্ত মুহূর্তে এমন ঋণের চাপ অর্থমন্ত্রী জন হিলির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

সম্প্রতি বন্ড বাজারের অস্থিরতা আর্থিক নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রে তার হাত আরো বেঁধে দিয়েছে। অ্যাকাউন্টেন্সি ও অ্যাডভাইজরি প্রতিষ্ঠান এমএইচএর প্রধান অর্থনীতিবিদ প্রফেসর জো নেলিস বলেন, ‘আগামী বাজেটের আগে সরকারের হাত-পা যে কতটা বাঁধা তা এ অর্থনৈতিক উপাত্ত আরেকবার স্পষ্ট করে দিল।’"

ঘাটতি বা ঋণ কমাতে না পারার কারণ হিসেবে মূলত অতিরিক্ত ব্যয়কেই দায়ী করছেন তিনি। দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশে গিয়ে পৌঁছেছে সম্প্রতি। এ উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি কর্মচারীদের বেতন, সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ও বয়স্ক ভাতা বা পেনশনের পেছনে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। পাশাপাশি পুরনো ঋণ পরিশোধ ও সুদের ব্যয় মেটাতেই সরকারের বিশাল অংকের অর্থ চলে যাচ্ছে।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যের মোট জাতীয় ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন পাউন্ডের কাছাকাছি পৌছে গেছে। এটি দেশটির মোট জিডিপির প্রায় ৯৪ শতাংশের সমান। ১৯৬০-এর দশকের শুরুর পর থেকে যুক্তরাজ্যে ঋণের হার আর কখনই এত উঁচুতে ওঠেনি। ব্যয় বৃদ্ধি ও রাজস্বের ঘাটতির কারণে অর্থনৈতিক এ সংকট আরো ঘনীভূত হচ্ছে।

আরও